Updated on September 17th, 2020 at 6:43 am(BST)

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনেক ভালো অবস্থানে আছে

শেখ হাসিনা এখন একটি আদর্শের নাম। একাধারে তিনি মমতাময়ী মা, কঠোর প্রশাসক। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো সিদ্ধান্ত কোনোদিন তিনি গ্রহণ করেননি। তিনি মাতৃস্নেহে বাংলাদেশের গরীব-দুঃখী মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তার হাতেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র সবচে নিরাপদ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ অনেক ভালো অবস্থানে আছে। দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপে এসব কথা বলেন আলোচকরা। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিল্প-বাণিজ্য সম্পাদক এবং এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি ও বিজিএমই’র সাবেক প্রেসিডেন্ট সিদ্দিকুর রহমান, সুইডেন আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম জাহাঙ্গীর কবির। দৈনিক ভোরের পাতার সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ।
অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত বলেন, আমাদের সবার প্রিয় জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছোটবেলা থেকেই রাজনৈতিক পরিবেশে বড় হয়ে উঠেছেন এবং এই রাজনীতি তার জীবন থেকে অনেক কিছুই কেড়ে নিয়ে গিয়েছে। তার জীবন থেকে বাবা, মা, ভাই থেকে শুরু করে অনেককেই তিনি সেই ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের কালো রাত্রিতে হারিয়েছেন। সে সময় জার্মানি থাকার কারণে তিনি বেচে গিয়েছিলেন কারণ আল্লাহ পাক এটাই চেয়েছিলেন। এই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য একজন নেত্রীই আছেন, তিনি হচ্ছেন আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই যে ৭৪ বছরে পা দিচ্ছেন, তিনি এখনো একজন তরুণীর মত দিনে ১৬-১৭ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন। কাজের মধ্যে অদম্য স্পৃহা ও তার পিতার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে দেশকে সামনের দিকে নেওয়ার জন্য যে চেষ্টা তা কিন্তু এই বয়সে একটুও দমে যায়নি।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সেদিন যদি হত্যা না করা হত , তাহলে কিন্তু বাংলাদেশ আজ অনেক এগিয়ে যেত। তার হত্যার পরবর্তী ২১টি বছর আমাদের জাতির জন্য ছিল কালো অধ্যায়। পরবর্তীতে জননেত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেত্রী হিসেবে দেশে ফিরে এসে দেশকে সামনের দিকে নেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান। আপনারা দেখেছেন যে, বাংলাদেশে কিন্তু বৈধ-অবৈধ পন্থায় অনেকেই সরকার প্রধান, রাষ্ট্র প্রধানও হয়েছেন। কিন্তু দেশের মানুষের কথা ভেবে দেশের আসল উন্নয়ন করেছেন আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪৭-৪৯ বছর। সেটা কিন্তু এখন ৭১-৭৩এ চলে এসেছে। দেখুন, আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের ওপরে হতো যদি না এই করোনা মহামারী দেখা দিতো। আমাদের মাথাপিছু আয় ২ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। বন্যা, করোনা, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা করে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের জাতি হিসেবে আমরা যে কত কৃতজ্ঞ যে, এই যে কাজ গুলো শেখ হাসিনা দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে ৮০ সনের সময় জিয়াউর রহমান তার মত সামরিক শাসন গঠন করে দেশ পরিচালনা করেছিলেন, পরবর্তীকালে এরশাদ সাহেব ৯০সন পর্যন্ত এটা করে গিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেমন ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ঠিক তেমনি তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়েও প্রত্যেকটি আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সমুদ্র সীমা জয় করেছে, ছিটমহল সমস্যার সমাধান করেছেন, তিনি সমাধান করেছেন পার্বত চট্টগ্রাম সমস্যার। একজন মানুষ তার এক জীবনে এতো গুলো কাজ করতে পারেন তার জনগণের জন্য, এর অনন্য উদাহরণ একমাত্র শেখ হাসিনা নিজেই।
সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমি আমার বক্তব্যের শুরুতেই গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেই ব্যক্তিকে, যিনি আমাদেরকে একটি পতাকা এনে দিয়েছেন, যার জন্ম না হলে আমরা এই স্বাধীন বাংলাদেশ পেতামনা। সেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। এই মাসে ২৮শে সেপ্টেম্বর আমাদের প্রিয় নেত্রী ৭৪ বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছেন, এর জন্য আমি তাকে আগাম মোবারকবাদ জানাচ্ছি।  শেখ হাসিনার জীবনটা কখনোই মসৃণ ছিলনা। ১৫ই আগস্টের কালো রাত্রি থেকে আল্লাহর রহমতে সেদিন আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা আপা ব্রাসেলে থাকায় বেঁচে যান।
১৫ই আগস্টের ঘটনার পর উনাকে জার্মানি যেতে হয় সেখান থেকে তাকে ভারতে চলে আসতে হয়েছিল। ভারতে তাকে নাম পরিবর্তন করে সেখানে থাকতে হয়েছিল। একটা পর্যায়ে রেহানা আপা লন্ডনে চলে যান। এরপর শেখ হাসিনা দেশে আসতে চাইলেন তখন তাকে দেশে আসার জন্য বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল। যার জন্ম এইদেশে, যে দেশে তার পুরো পরিবার নিহত হয়েছিলেন সেই দেশেই তিনি ফিরে আসতে পারবেন না; এইরকম একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল তখন। উনি তখন এই নিয়ত করেই দেশে ফিরেছিলেন যে, আমার যাই হোক, আমি আমার দেশে ফিরে যাবোই যাবো। এই যে সাহস, এই সাহসটাই বা কয়জনের মধ্যে আছে। তার এই সাহসিকতার কারনেই বাংলাদেশ আজ এই অবস্থানে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছিল।
এই করোনাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো পুরোপুরি থমকে যায়নি। আমি দীর্ঘদিন বিজিএমই’র প্রেসিডেন্ট ছিলাম। আমি অনেক সমস্যার সমাধানের জন্য তার বাসায় অনেক রাত্রে গিয়ে তার কাছ সমাধান চেয়েছিলাম, তিনি এত রাত্রেও তখন সেই সমস্যার সমাধান দিয়েছিলেন। এই যে এত ধৈর্য্য আর সাহসিকতার কারণে আজ আমাদের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯০০ বিলিয়ন ডলার। এই যে করোনাকালে তিনি যেসব প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন সেটা রপ্তানি খাতে এই সময়ে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে। আমাদের অর্থনীতি তার নেতৃত্বে করোনা পরবর্তী সময়ে অচিরেই আরও ঘুরে দাঁড়াবে বলেও আমি বিশ্বাস করি।
এ এইচ এম জাহাঙ্গীর কবির বলেন,  আমি প্রথমেই ধন্যবাদ জানাতে চাচ্ছি ড. কাজী এরতেজা হাসান ভাইকে যিনি আমাকে এই ভোরের পাতা সংলাপ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য উৎসাহিত করেছেন। এজন্যই আমি এরতেজা ভাইকে বলেছিলাম এই যে ভোরের পাতার মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছাক প্রত্যাশার খবর, মানুষের কাছে পৌঁছাক শেখ হাসিনার সাফল্যের খবর, সরকারের উন্নয়নের খবর। এটাই প্রত্যাশা করি আমি। আমি আমার বক্তব্যের শুরুতেই গভীরভাবে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি, শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ১৫ই আগস্টের সেই মর্মান্তিক রাতে যারা নিহত হয়েছিলেন।
আমি সকলের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। শ্রদ্ধা জানাই ১৯৪৮ সাল থেকে এই পর্যন্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা জীবন আত্মত্যাগ করেছিলেন। আমার আগের আলোচক বৃন্দরা খুব সুন্দরভাবে আমাদের আপার উন্নয়নগুলো তুলে ধরেছেন। আমাদের নেত্রী যখন দেশে ফিরে আসলেন তখন আমরা বিমান বন্দরে গিয়েছিলাম তাকে অভ্যর্থনা জানাতে। তখন শুধু মনে হচ্ছিলো বাংলাদেশের লক্ষ্য কোটি মানুষ গভীর প্রত্যাশায় অপেক্ষা করছে, এই মানুষটার বড্ড বেশি প্রয়োজন, এই মানুষটাই আমাদেরকে মুক্তি দিতে পারবে। এত মমতাময়ী একজন মানুষ আছে, এত মমতা নিয়ে দেশের মানুষকে উপলব্ধি করতে পারে একজন মানুষ, তা তাকে না দেখলে বুজতেই পারতামনা। তাকে দেখেই বুজে গিয়েছিলাম এদেশের মানুষ একদিন মুক্তি পাবে, এদেশের গণতন্ত্র একদিন মুক্তি পাবে এবং সে থেকেই আমাদের ব্যক্তিগতভাবে কোন চাওয়া পাওয়া ছিলনা। মাথার মধ্যে একটি জিনিষ তখন কাজ করতো, শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর মেয়ে। বঙ্গবন্ধু বাঙালিকে গণতন্ত্র মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন এবং এই স্বপ্ন বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে তার কন্যায় যে বাস্তবায়ন করবেন এটাই ছিল আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা। ঠিক সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা।
Total views 35

মূল প্রকাশকের সংবাদটি পড়তে এই লিংকে ক্লিক করুন Click Here.  উপরের সংবাদ এবং ছবিটি থেকে সংগ্রহীত এবং এই সংবাদটির মূল প্রকাশক কর্তিক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই সংবাদটি কোন প্রকার সংশোধন পরিবর্তন অথবা পরিবর্ধন ছাড়া অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত। প্রকাশক কর্তিক যে কোনো আপত্তি webbangladeshgroup@ gmail.com গ্রহণ করা হয়। এই সংবাদে প্রকাশিত সংবাদ, তথ্য বা মতবাদ এর সাথে ওয়েব বাংলাদেশ এর কোন সম্পর্ক নাই এবং কোন প্রকার দায় ভার গ্রহণ করে না।