Updated on October 18th, 2020 at 8:40 am(BST)

বঙ্গবন্ধুর পথ ধরেই চলচ্চিত্র বিকাশে শেখ হাসিনা

বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। দেশের প্রতিটি ধুলিকণার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর পরিচয় ছিল, আছে এবং থাকবে। বঙ্গবন্ধু ছিলেন জনগণের নেতা। স্বাধীনতা অর্জনের পর সবকিছু সুন্দরভাবে গুছিয়ে নিচ্ছিলেন বঙ্গবন্ধু। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি একটি সুন্দর চলচ্চিত্রাঙ্গণও উপহার দিয়েছিলেন। পঁচাত্তর সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মধ্যদিয়ে পুরো দেশকে হত্যা করে ঘাতকরা। এর সঙ্গে অবসান ঘটে সকল স্বপ্নের। হত্যা করা হয় জীবনদর্পণের সংস্কৃতিকে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার মধ্যদিয়ে দীর্ঘ সময় চলচ্চিত্র ডুবে গিয়েছিল অশ্লিলতার আবরণে। সেই জায়গা থেকে বঙ্গবন্ধুর পথ অনুসরণ করে সুষ্ঠু সংস্কৃতির বিকাশে চলচ্চিত্রকে বর্তমানে একটি সুন্দর জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি বাচসাস এর উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিব শতবর্ষ’ উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বাচসাস সভাপতি ফালগুনী হামিদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, তথ্য সচিব কামরুন্নাহার, জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি সাইফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, ভোরের কাগজ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ শ্যামল দত্ত, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মৌসুমী ও অভিনেতা ফেরদৌস প্রমুখ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র গবেষক অনুপম হায়াৎ ও প্রধান আলোচক ছিলেন বাচসাস’র সাবেক সভাপতি রফিকুজ্জামান।

চলচ্চিত্রের বর্তমান পরিস্থিতি উল্লেখ করে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও মধ্যখানে এটি মূল জায়গা থেকে লক্ষচ্যুত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু মনেপ্রাণে সংস্কৃতিকে ধারণ করতেন। বর্তমানে তার কন্যাও সংস্কৃতিকে ভালোবাসেন। বঙ্গবন্ধুর পরিবার হচ্ছে একটি বহুমাত্রিক পরিবার। এমন একটি পরিবার বিশ্বের কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবেনা। রাষ্ট্রের সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে সঠিক পথ দেখায় সংস্কৃতি। এ অঙ্গণের মানুষের অভিনয়ের মাধ্যমেই সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে জাগরত করে। ফলে ধর্ষণ-নারী নির্যাতনসহ সমাজের সকল অনাচারের বিরুদ্ধে আলোকোজ্জল সংস্কৃতির বিকাশে এবং আমাদের সরকারের সহযোগীতা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, আমরা গৌরান্বিত যে, আমরা জীবিত থাকাবস্থায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি। বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপাদমস্তক বাঙ্গালীর সংস্কৃতির ধারক-বাহক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্কৃতি আমাদের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। কিন্তু বঙ্গবন্ধু চলচ্চিত্রের যে জায়গায় অবদান রেখেছেন বর্তমানে আমরা সে জায়গায় নেই। বঙ্গবন্ধু যে জায়গাটি তৈরি করে দিয়ে গেছেন সেই জায়গায় ফিরে আসার সময় এসেছে। বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা অক্ষুন্ন থাকবে তখনি, যখন আমরা তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে পারবো।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, চলচ্চিত্রের পূর্বের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেখানে পুরো দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে চলচ্চিত্র পিছিয়ে থাকবেনা। বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে চলচ্চিত্রের উন্নয়নও এগিয়ে যাবে। সেই কাজটি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে করতে হবে। তথ্য সচিব কামরুন্নাহার বলেন, প্রধানমন্ত্রী চলচ্চিত্র শিল্পকে ভুলে যান নি। তিনি চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে আরো বেগবান করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন সহযোগীতার মাধ্যমে। সরকার চলচ্চিত্রের উন্নয়নে ব্যাপক কাজ হাতে নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তথ্য সচিব বলেন, আসুন আমরা চলচ্চিত্রকে জীবনদর্পণে পরিপূর্ণ করি। বঙ্গবন্ধু এবং তার কন্যার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।

অভিনেত্রী মৌসুমী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই আমাদের সকল ধ্যানজ্ঞান। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আসতে হবে আমাদের চলচ্চিত্রের সকল কর্মকাণ্ডে। যাতে বঙ্গবন্ধুর বিশালতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ আরো বেশি করে জানতে পারে। সংস্কৃতি অঙ্গণকে সেই জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। সংস্কৃতি নিয়ে বঙ্গবন্ধর যে স্বপ্ন ছিল তা বাস্তবায়ন করতে হবে। অভিনেতা ফেরদৌস বলেন, সুষ্ঠু, সুন্দর ও শিক্ষনীয় চলচ্চিত্র দেশ ও সমাজের দর্পণ। আমাদের চলচ্চিত্রে হারানো গৌরবোজ্জল দিন ফিরিয়ে আনতে হবে এবং সেই কাজটি অভিনেতা অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরাসহ সকলকে দায়িত্ব নিয়ে করতে হবে। তবেই চলচ্চিত্র নিয়ে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত হবে।

Total views 25

মূল প্রকাশকের সংবাদটি পড়তে এই লিংকে ক্লিক করুন Click Here.  উপরের সংবাদ এবং ছবিটি থেকে সংগ্রহীত এবং এই সংবাদটির মূল প্রকাশক কর্তিক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই সংবাদটি কোন প্রকার সংশোধন পরিবর্তন অথবা পরিবর্ধন ছাড়া অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত। প্রকাশক কর্তিক যে কোনো আপত্তি webbangladeshgroup@ gmail.com গ্রহণ করা হয়। এই সংবাদে প্রকাশিত সংবাদ, তথ্য বা মতবাদ এর সাথে ওয়েব বাংলাদেশ এর কোন সম্পর্ক নাই এবং কোন প্রকার দায় ভার গ্রহণ করে না।