Updated on October 18th, 2020 at 9:05 am(BST)

কম ছিলো ভোটার উপস্থিতি

ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের বাইরে এলোমেলোভাবে থাকা মানুষ গণমাধ্যমের ক্যামেরা দেখার সাথে সাথেই লাইনে দাঁড়িয়ে যান ভোট দেয়ার ভান করে। ছবিটি গতকাল ডেমরার আমুলিয়া স্কুল থেকে তোলা-এম খোকন সিকদার
ভোট গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও প্রয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। ভোটারদের ভোটকেন্দ্রমুখী করতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। ভোট গ্রহণের সব ধরনের প্রস্তুতি নিলেও ভোটারের আশাব্যঞ্জক সাড়া মিলছে না। গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের মতোই গতকাল শনিবার ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনে উপনির্বাচনে ভোটারদের সাড়া মেলেনি।

করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যেই নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণের সব ধরনের প্রস্তুতি নিলেও ভোটার উপস্থিতি ছিলো কম। করোনা ভাইরাসের কারণে বয়স্ক এবং নারী ভোটার উপস্থিতি ছিলো একবারে নগণ্য। দুটি আসনের কেন্দ্রগুলোতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি ছিলো। কোথাও বিএনপি সমর্থকদের জোরালো অবস্থান দেখা যায়নি।

তবে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দুটি আসনে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি ভোটকক্ষে একটি করে ইভিএম এবং প্রতিটি কেন্দ্রে কারিগরি দল রাখা হয়। কেন্দ্রে সবার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসামগ্রী এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার বার্তা প্রচার করা হয়। ভোটগ্রহণ শুরু পর হতেই এজেন্ট বের করে দেয়াসহ নানা অভিযোগ তুলে বিএনপির প্রার্থীরা। এক পর্যায়ে দুটি আসনেই ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপির মনোনিত প্রার্থীরা।

আর ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থীরা। ভোটগননা শেষে রাতে ফলাফল ঘোষণা করে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনে উপনির্বাচনে দুটিতেই জয়লাভ করেছে আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকার প্রার্থীরা।

এরা হলেন— ঢাকা-৫ আসনে কাজী মনিরুল ইসলাম মনু এবং নওগাঁ-৬ আসনে আনোয়ার হোসেন হেলাল।

এর মধ্যে নওগাঁ-৬ (রানীনগর-আত্রাই উপজেলা) আসনের উপনির্বাচনে ১ লাখ পাঁচ হাজার ৪৬৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী (নৌকা) আনোয়ার হোসেন হেলাল।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির শেখ রেজাউল ইসলাম (ধানের শীষ) পেয়েছেন চার হাজার ৫১৭ ভোট। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (আম) প্রার্থী ছিলেন ইন্তেখাব আলম রুবেল। রাতে নওগাঁ জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান ফলাফল ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, ঢাকা-৫ আসনে নৌকা প্রতীকে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী মনিরুল ইসলাম মনু। তিনি নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৬৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের সালাহ উদ্দিন পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৬ ভোট।

গতকাল রাতে রাজধানীর দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনির হোসেন খান।

প্রতিনিধিদের দেয়া তথ্য মতে, এর আগে দুটি আসনেই গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। দুটি আসনে বেশির ভাগ কেন্দ্রেই বিএনপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। এমনকি বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টকেও পাওয়া যায়নি। ভোটকেন্দ্রের বাইরে সকাল থেকেই তৎপর ছিলো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন ১৪টি ওয়ার্ড এবং ডেমরা, যাত্রাবাড়ী এবং কদমতলী থানার কিছু অংশ নিয়ে এ আসন বিস্তৃত। এসব এলাকার ১৮৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি তেমন দেখা যায়নি। কোনো কোনো কেন্দ্রে বেলা ১১টায় পর্যন্ত ৫০টি মতো ভোট পড়ার খবর পাওয়া যায়। দুপুর ১টা পর্যন্ত বেশির ভাগ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিলো খুবই কম। শেষ দিকে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা বাড়ে।

সারাদিনই নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকারীদের অলস সময় পার করতে দেখা যায়। কয়েকটি কেন্দ্রে গণমাধ্যম কর্মীদের দেখে কৃত্রিম লাইন তৈরি করতে দেখা যায় নৌকা সমর্থকদের। দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ডগাইর দারুচ্ছুন্নাত ফাজিল মাদ্রাসা, মেট্রোপলিটন ক্রিয়েটিভ স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ একাধিক কেন্দ ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

যাত্রাবাড়ীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে সকাল সোয়া ৯টার দিকে ভোট দেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী কাজী মনিরুল ইসলাম মনু। নেতাকর্মীদের নিয়ে কেন্দ্রে ঢুকে ভোটকক্ষে যান তিনি। তার সঙ্গে সাংবাদিকরা গেলে মনু নিজেই তাদের ভোটকক্ষে যেতে মানা করেন। ভোটকক্ষে থেকে বেরিয়ে এসে আমুলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন মনিরুল।

সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভোট অত্যন্ত সুষ্ঠু হচ্ছে। ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও এটা আস্তে আস্তে বাড়বে। নজিরবিহীন নির্বাচন হবে। জনগণের রায়ে আমি নির্বাচিত হবো।’

ভোটের উৎসবকে নষ্ট হওয়ার জন্য বিএনপির হাইকমান্ডকে দায়ী করছেন স্থানীয় জনগণ। প্রার্থী বাছাইয়ে দলটির সিদ্ধান্ত ভুল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কারণ সালাহউদ্দিন আহমেদ এই আসনের ভোটারই নন। এছাড়া তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী) আসন থেকে অংশ নেন। তাই ভোট একতরফা হচ্ছে বলে দাবি করছেন বিএনপির ভোটাররা।

তাই ভোটের উৎসবকে নষ্ট হওয়ার জন্য বিএনপির প্রার্থী বাছাইকে দায়ী করেছেন নেতাকর্মীরা। সকালে বিএনপি প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহম্মেদের অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে আজ পর্যন্ত কোনো নির্বাচন করতে পারেনি।

তাই আজকের নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে না বলেই আমি মনে করি। বেশির ভাগ কেন্দ্র থেকে আমাদের এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। এ জন্য ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ কেন্দ্রে আমাদের এজেন্ট নেই।’

তিনি বলেন, ‘এটি একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন। তারা যেভাবে ত্রাস সৃষ্টি করেছেন, এতে করে জনগণ তাদের ভোট দেবে না। তবুও আমি শেষ পর্যন্ত দেখবো এবং শেষ পর্যন্ত থাকবো।’

নওগাঁ-৬ রানীনগর ও আত্রাই উপজেলা নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনি এলাকায় মোট ভোটার তিন লাখ ছয় হাজার ৭২৫ জন। ১০৪টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট নেয়া হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী ছাড়াও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী ইন্তেখাব আলম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উপনির্বাচনে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রেই ভোটারদের উপস্থিতি কম দেখা গেছে এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছে বিএনপি।

দুপুরে আত্রাই উপজেলার ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটিতে ভোটারদের কোনো সারি নেই। কিছুক্ষণ পর একজন-দুজন করে ভোটার ভোট দিয়ে যাচ্ছেন।

ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার দুই হাজার ৩৭৮ জন। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ২৮০টি, যা মোট ভোটারের ১২ শতাংশের কিছু কম। ওই কেন্দ্রে ছয়টি বুথের কোনোটিতে বিএনপির এজেন্ট পাওয়া যায়নি।

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, তালিকা দিলেও বিএনপির কোনো এজেন্ট এখানে কোনো বুথেই দায়িত্ব পালন করতে আসেননি। ভোট শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হচ্ছে। কেন্দ্রের ভেতর কিংবা বাইরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। রানীনগর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার শফিকুল ইসলাম, জুয়েল রানা, মোকাব্বেরসহ বেশ কয়েক জনের সঙ্গে কথা হয়।

তারা জানান, ভোট দেয়ার জন্য কেন্দ্রের ভেতর ঢুকতে চাইলে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা তাদের ঢুকতে বাধা দিয়েছেন। পরে ভোট না দিয়েই তারা ফিরে আসেন।

বিএনপির ভোট বর্জন
নওগাঁ-৬ (রানীনগর ও আত্রাই) আসনের উপনির্বাচনের ভোটকেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়া ও ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেয়ার অভিযোগে ভোট বর্জন করেছে বিএনপি।

গতকাল বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আত্রাই উপজেলা সদরের নাহার গার্ডেন মার্কেটে দ্বিতীয় দফায় সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপি প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

রেজাউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে চিহ্নিত বিএনপির সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দিয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সন্ত্রাসীরা। ১০৪টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটি বুথে ধানের শীষের এজেন্ট দেয়া হয়েছিল।

সকাল ৯টার সময় ভোট শুরুর পরপরই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা বিএনপির এজেন্টদের মারধর করে বের করে দিয়েছেন।’ রেজাউল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, কোনো কোনো কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের এজেন্টরা নৌকা প্রতীকে ভোটারদের ভোট দিয়ে দিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেও তারা কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান বলেন, সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বড় ধরনের সহিংসতা কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিএনপির প্রার্থী তার এজেন্টদের বের করে দেয়ার যে অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক কেন্দ্র বিএনপির কোনো এজেন্ট দেয়া হয়নি।

এদিকে, গতকাল সন্ধায় তার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভোটে অনিয়মের অভিযোগ এনে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবির মাধ্যমে ভোটের ফলাফল বর্জন করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা-৫ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ। পাশাপাশি অনিয়মের প্রতিবাদে আগামীকাল দুপুর ২টায় নির্বাচনি এলাকায় মানবন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি এই নির্বাচনের প্রথম দিন আমরা যখনই গণসংযোগে গেছি জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছে এবং তখনই আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আমাদের নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন করেছে। আপনারা দেখেছেন দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের দুই মহিলা এজেন্ট বোনকে অপদস্ত করে বের করে দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও আর কে মিশন চৌধুরী স্কুলে আমাদের আরেক নারী এজেন্টের ওপর হামলা করে বের করে দেয়া হয়েছে। এমনকি তার গায়ে হাতও দেয়া হয়েছে। এসময় প্রিসাইডিং অফিসারদের প্রতি অভিযোগ তুলে বিএনপি প্রার্থী বলেন, প্রায় সব কেন্দ্রেই আমাদের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। যেসব কেন্দ্রে এজেন্ট ঢুকেছে তাদেরও বের করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

আমরা নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বারবার অবহিত করলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তাই আপনাদের মাধ্যমে আমরা এ অনিয়মে জর্জড়িত অবৈধ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করছি এবং পুনঃনির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের সাধারণ মানুষের আস্থাহীনতা বাড়ছে। নির্বাচনে এত প্রচার-প্রচারণার পর ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে কেন গেলেন না সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি। ভোটের প্রতি আস্থাহীনতার প্রকাশ ঘটেছে এ নির্বাচনে।

গত ২১ মার্চ ঢাকা-১০ আসনের উপ নির্বাচনে মাত্র ৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল। যদিও মহামারির মধ্যে ঢাকার বাইরে ব্যালটপেপারে উপনির্বাচনে ৫৫ থেকে ৬৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও নেতিবাচক প্রভাবের কারণে উপস্থিতি কম হয়েছিল বলে ধারণা প্রধান নির্বাচন কমিশনা কে এম নুরুল হুদার।

ঢাকা ৫ ও নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার দাবি করে প্রধান নির্বাচন কমিশন কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনে কোথাও কোনো অসুবিধার সৃষ্টি হয়নি। আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ নেই। গতকাল এ দুটি আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচনে ভোটারদের আগ্রহ কম বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কেএম হুদা বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে সারা দেশে ভোট হয়। এই খণ্ড নির্বাচনে ভোটারদের আগ্রহ কম থাকে। এ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য সরকার পরিবর্তনের সুযোগ নেই।

দুই বছর/আড়াই বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন সেই জন্য হয়তো প্রার্থী বা ভোটারদের মধ্য তেমন আগ্রহ নেই। পাশাপাশি করোনার একটি বিষয় তো রয়েছে। এ জন্য মানুষ আতঙ্কিত। মানুষ যেতে চায় না এ রকম একটা অবস্থা তো আছেই। এর মধ্যেও নির্বাচনের ট্রেন্ড ভালো।

Total views 9

মূল প্রকাশকের সংবাদটি পড়তে এই লিংকে ক্লিক করুন Click Here.  উপরের সংবাদ এবং ছবিটি থেকে সংগ্রহীত এবং এই সংবাদটির মূল প্রকাশক কর্তিক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই সংবাদটি কোন প্রকার সংশোধন পরিবর্তন অথবা পরিবর্ধন ছাড়া অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত। প্রকাশক কর্তিক যে কোনো আপত্তি webbangladeshgroup@ gmail.com গ্রহণ করা হয়। এই সংবাদে প্রকাশিত সংবাদ, তথ্য বা মতবাদ এর সাথে ওয়েব বাংলাদেশ এর কোন সম্পর্ক নাই এবং কোন প্রকার দায় ভার গ্রহণ করে না।