ফেসবুক মার্কেটিংয়ের প্রয়োজনীয়তা

Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

বিশ্ববাজারে নিজের ব্যবসায়ীক প্রসার ঘটাতে ফেসবুকের তুলনা নেই। একই সাথে এর মাধ্যমে স্থানীয় বাজারেও ব্যবসায়ীক পরিচিতি বৃদ্ধি করা সম্ভব। যেসব কারণে আজকের বাজারে ফেসবুক মার্কেটিংয়ের বিকল্প নেই তা হলো-

ম্যাসিভ এক্সপোজার লাভ করা:

নিঃসন্দেহে ফেসবুক হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া জগতের বিগ ড্যাডি, যার বর্তমান ইউজার সংখ্যা ১.২ বিলিয়নেরও বেশি। ১ বিলিয়নেরও বেশি সংখ্যক ইউজার প্রায় সব সময়ই ফেসবুকে অ্যাক্টিভ থাকেন। ফেসবুকর মার্কেটিংয়ের সুবিধার জন্য পেজ, গ্রুপ এবং অ্যাড ভিত্তিক প্লাটফর্ম তৈরী করেছে।

তো সহজেই অনুমান করা যায় যে ফেসবুকের বিপুল সংখ্যক ইউজার আর বিভিন্ন ধরনের মার্কেটিং প্লাটফর্ম ব্যবহার করে খুব সহজেই অনেক বেশি সংখ্যক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব।

একটা সময় ছিল যখন কোন পণ্যের মার্কেটিং করার জন্যে দৈনিক পত্রিকা এবং টিভিতে বিজ্ঞাপন দিতে হতো যা বেশ ব্যায়বহুল ছিল। এখন, এই জায়গাটা দখল করে নিয়েছে ফেসবুকের মতো আরো কিছু সোশ্যাল মিডিয়া। আমাদের দেশে যেহেতু, এটির জনপ্রিয়তাই সবচেয়ে বেশি, তাই আপনার পণ্যের প্রচার-প্রসার ও বিক্রি বৃদ্ধির জন্যে ফেসবুকের বিকল্প মার্কেটিং ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত নেই।

স্বল্প মার্কেটিং খরচ:

ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট তৈরী করার খুব একটা প্রয়োজন পড়ে না। কারণ ওয়েবসাইট তৈরী করতে হলে ডোমেইন কেনা, হোস্টিং কেনা, সাইট ডেভেলপ এবং সেটির রক্ষণাবেক্ষনে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। সেখানে কোন প্রকার খরচ ছাড়াই যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে ফেববুকে পেজ তৈরী করাসহ কন্টেন্ট পোস্ট করার সুবিধা পেয়ে থাকেন।

ফ্রি মার্কেটিংয়ের পাশাপাশি কিছু বাড়তি সুবিধার জন্য অনেকে পেইড মার্কেটিং পদ্ধতি বেছে নেন। এর কারণ হলো গতানুগতিক যে কোন টেলিভিশন বা প্রিন্টিং মিডিয়াতে বিজ্ঞাপন দেওয়ার খরচের তুলনায় ফেসবুক ভিত্তিক পেইড মার্কেটিংয়ের খরচ অনেক কম।

টার্গেটেড অডিয়েন্স পাওয়া:

বিক্রেতা হিসাবে আপনার পণ্যটি কোন ধরনের ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী তা নিশ্চয়ই আপনার অজানা নয়। ফেসবুক ভিত্তিক মার্কেটিং আপনার পোস্টকৃত কন্টেন্ট আপনার টার্গেটকৃত অডিয়েন্সের সামনে উপস্থাপনের নিশ্চয়তা প্রদান করে। টার্গেট অডিয়েন্স বলতে সেই ধরণের লোকজন বা ইউজার যাদের আপনার প্রয়োজন।

ফেসবুকের রয়েছে বিশেষ ধরনের অ্যালগরিদম। এর মাধ্যমে ফেসবুক ইউজারদের পছন্দের বিষয়গুলিকে বোঝার চেষ্টা করে। আপনার পেজে যদি ১ লক্ষেরও বেশি লাইক আসে, কিন্তু যদি আপনার পণ্য বিক্রয় না হয়, তবে সে ধরনের মার্কেটিং আপনার কোন কাজেই আসবে না। কিন্তু টার্গেটেড মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে এই অ্যালগরিদমকে ব্যবহার করে ফেসবুক এমন ব্যক্তিদেরকেই আপনার বিজ্ঞাপন দেখায় যারা ঐ ধরনের পণ্য বা সেবা গ্রহণে আগ্রহী।

আপ-টু-ডেট থাকা:

ফেসবুক পেজ তৈরী করার সাথে সাথেই সেখানে ইনসাইট নামক একটি ফিচার দেখা যায়। পেইড বা ফ্রি যে ধরনের প্রোমোশনেই আপনি ইনসাইট সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে আপনি পেজের গ্রোথ, ট্রাফিক, পেজ ভিউ, রিচ, লাইক ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাবেন।

ইনসাইট এর মাধ্যমে আপনার পেজে কোন ধরনের পোষ্টে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ আকৃষ্ট হচ্ছে তা সম্পর্কে আপনি সহজেই তথ্য পেয়ে যাবেন। এছাড়া প্রতিটি পেজের জন্য রয়েছে আলাদা ম্যাসেঞ্জার অ্যাকাউন্ট যার মাধ্যমে আপনি ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রেখে প্রাতিষ্ঠানিক আইডি থেকে গ্রাহকদের সাথে চ্যাটিং এর মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান করতে পারবেন।

২০০৮ সালে ফেসবুক মাইস্পেসকে চমকে দিয়ে বিশ্বব্যাপী সোশ্যাল মার্কেটিংয়ের দিক থেকে মাইস্পেসকে টপকে যায়। ২০১২ সালের জুন মাস পর্যন্ত ফেসবুকের কারণে মাইস্পেস তার ২৫ মিলিয়ন ইউজার হারায়। মার্কেটিংয়ে প্রসিদ্ধ সব প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের অধিকাংশ বিনিয়োগ ফেসবুকে করতে শুরু করে।

ফেসবুক মার্কেটিং খুব দ্রুত সময়েই জনপ্রিয়তা লাভ করতে সক্ষম হয়। সময়ের সাথে সাথে বিশ্বব্যাপী ফেসবুক ৯৫০ মিলিয়নেরও বেশি ইউজার তৈরী করে। এদের মধ্যে ১৪৫ মিলিয়ন ইউজার ছিল ইউনাইটেড স্টেট এর যা তাদের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৩ ভাগ। গুগল ডট কমের পর এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভিজিটকৃত ওয়েবসাইট।